কখনো তীব্র গরম, আবার কখনো বৃষ্টি। কখনো কখনো আবার রোদের ঝলকানির মধ্যেই বৃষ্টি পড়তে দেখা যায়। তবে গরমের দাপটের কারণে সকাল সকাল গোসল করা হয়। আবার বাসা-বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় থাকা হলে ফিরেই গোসল করা হয়। মূলত ঘামের কারণে অস্বস্তির শেষ থাকে না। এ কারণে গরমে খাবার খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না।
এ সময় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকে, সকালে নাকি দুপুরে, কখন পেট ভরে খাওয়া হলে শরীর ঠিক থাকবে বা কখন পেট ভরে খাওয়া উচিত? সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শ্রাবণী মুখার্জি এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তাহলে এই পুষ্টিবিদের পরামর্শ জেনে নেয়া যাক।
গরমের সময় পেট ভরে খাওয়া ঠিক নয়। এতে গরমে আরও হাঁসফাঁস বেড়ে যাবে। খাবারও ঠিকমত হজম হবে না। সেই সুবাদে গ্যাস, অ্যাসিডিটি থেকে শুরু করে নানা জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য গরমে একসঙ্গে অনেক খাবার না খেয়ে, অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উচিত। এই নিয়ম মেনে চললেই উপকার মিলবে।
সকালে না দুপুরে, কখন ভারী খাবার খাওয়া ঠিক:
এ ব্যাপারে শ্রাবণী মুখার্জি বলেন, শুধু গরমের দিনে নয়, বরং বছরজুড়েই সকালের নাশতা ভারী খাবার খেয়ে শুরু করা ঠিক। আর দুপুরের খাবারে সকালের তুলনায় হালকা খাবার খাওয়া ভালো। রাতে যতটা না খেলে নয়, ততটা খাওয়া উচিত। এই নিয়মে চললে শরীর সুস্থ থাকবে। এমনকি শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যানার্জির ঘাটতিও দূর হবে।
সকালের নাশতা বাদ নয়:
এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা ওজন কমানোর জন্য সকালে নাশতা করতে চান না। এতে শরীরে শক্তির ঘাটতি হয় বলে জানিয়েছেন শ্রাবণী। তার ভাষ্যমতে―সকালের নাশতা হলো দিনের প্রথম খাবার। এই খাবার ঠিকমত খেলে দুর্বলতা কাটে। শরীরের সব অঙ্গ ঠিকঠাক কাজ করে। বিপরীতে, যদি সকালের নাশতা না করেন, তাহলে মেটাবোলিজম রেট ধীর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাতে মেদ জমার আশঙ্কাও থাকে। এ জন্য ওজন কমাতে চাইলেও নিয়মিত সকালে নাশতা করতে হবে।
সুষম খাবার খাওয়া:
সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতের খাবার হচ্ছে দিনের তিনটি বড় খাবার। এসব খাবারে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্ব, খনিজ ও ভিটামিনের উপস্থিতি থাকা উচিত। প্রোটিনের উৎস হচ্ছে ডিম, মাছ, মাংস ও সোয়াবিন। তেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারের মধ্যে ফ্যাট থাকে। অপরদিকে কার্বের ঘাটতি মেটানোর জন্য ভাত, রুটি, ডালিয়, ওটস ও শস্যদানা খেতে পারেন। আর ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণের জন্য শাক-সবজি ও ফল খেতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান:
গরমে পানিশূন্যতা কাটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। না হলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হতে পারে। তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পরিমাণ পানি পান করুন। তবে কিডনিজনিত সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
খুলনা গেজেট/এনএম

